"চাহিবা মাত্রই সবকিছু পাওয়া"—এই সংস্কৃতি আমাদের শিশুদের ত্যাগের শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
'নার্সিসিজম' বা আত্মমুগ্ধতা তৈরি হয়। শিশুরা মনে করে পৃথিবী তাদের চারপাশে ঘোরে এবং তাদের প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ হওয়া জন্মগত অধিকার।
রাসুল (সা.) বলেছেন, সম্পদের লোভ দ্বীনের জন্য দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। (তিরমিযী)
সন্তানরা পিতামাতাকে ভালোবাসে না, ভালোবাসে তাদের দেওয়া সুবিধাকে। সম্পর্ক হয়ে যায় 'প্রোভাইডার' ভিত্তিক।
আপনার সন্তানের মাঝে কি এই লক্ষণগুলো আছে?
"সাদাসিধা জীবনযাপন ঈমানের অঙ্গ।"
রাসুল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের চেয়ে কম বিত্তশালীদের দিকে তাকাও, বিত্তশালীদের দিকে তাকিও না।" এটি নিয়ামতের কদর শেখায়।
সাহাবিয়াহ রুবাইয়ি (রা.) শিশুদের ক্ষুধা ভুলিয়ে রাখতে পশমের খেলনা দিতেন, যা ত্যাগের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।
মার্শমেলো টেস্ট প্রমাণ করে, যারা ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করতে পারে, তারা ভবিষ্যতে বেশি সফল হয়। চাইলেই সাথে সাথে দেবেন না।
হার্ভার্ড স্টাডি বলে, শৈশবে ঘরের কাজ করা শিশুরা বেশি সুখী হয়। এটি তাদের শেখায় যে তারা 'ভোগকারী' নয়, 'অবদানকারী' (Contributor)।
সন্তানকে সব সময় বিনোদিত রাখার চেষ্টা করবেন না। একঘেয়েমি থেকেই সৃজনশীলতার জন্ম হয়।
সন্তানকে 'Needs' এবং 'Wants'-এর পার্থক্য শেখান। শপিং-এ যাওয়ার আগে তালিকা করুন।
সন্তানের হাতে 'সাদাকাহ বক্স' তুলে দিন। ঈদে বা জন্মদিনে দামী উপহারের বদলে এতিমখানায় দান করতে উৎসাহিত করুন।
সপ্তাহে একদিন সবাই মিলে কাগজে লিখে জারে জমা দিন—আল্লাহর কোন নিয়ামতের জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।